দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ, ইছামতি, বেতনা নদী ও বিভিন্ন নৌ-খালের ৩০২ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ দখলমুক্ত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদ কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব (এসএ) শাখা থেকে কর্মপরিকল্পনাটি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে উচ্ছেদ পরিকল্পনা ও দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত ও পুনরায় যাচাইয়ের ভিত্তিতে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে জেলার কপোতাক্ষ, ইছামতি, বেতনা এবং বিভিন্ন সংযোগ নৌ-খালের সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা, মাছের ঘের, পুকুর, আমবাগান, কৃষিজমি, ইটভাটা ও শিল্পকারখানার স্থাপনা নির্মাণের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদর উপজেলার রাধানগর মৌজায় ইছামতি নদীর তীরবর্তী প্রায় ১০ জন বড় দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে বিনেরপোতা মৌজায় বেতনা নদীর জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর ও কারখানার স্থাপনা নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বেতনা নদীর দখলদারদের সর্বশেষ নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন নৌ-খাল দখল করে ধান ও মাছ চাষের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাবুলিয়া মৌজায় নদীর সীমানার মধ্যে দুটি বাণিজ্যিক ইটভাটা নির্মাণের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্যমতে, তালা উপজেলার মাগুরা, জগদানন্দকাটি, পুটিয়াখালী, রাজেন্দ্রপুর ও জালালপুর মৌজায় কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় সবচেয়ে বেশি দখলের চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে শতাধিক ব্যক্তি নদীর জায়গা দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এসব দখলদারকে উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালের জায়গা উদ্ধারে সর্বোচ্চ ৫০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির পাশাপাশি নদীতীরে বসবাসকারী ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়টি উচ্ছেদ কার্যক্রমের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাতক্ষীরা জেলা সম্পাদক ও নদী সুরক্ষা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, নদী রক্ষায় বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তাঁর দাবি, যেহেতু দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা উচিত।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম মইন বলেন, উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তদারকিতে পরিচালিত এ অভিযানে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও ছাড় দেওয়া হবে না। উদ্ধার করা নদীর জায়গাগুলোতে বনায়নেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএম/